নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৯:২৬ এএম
দেশ-বিদেশের ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য পর্যটন, ভ্রমণ ও বিনিয়োগের নানা সুযোগ নিয়ে রাজধানীতে শুরু হচ্ছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় শুরু হবে তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে মেলা।
সোমবার রাজধানীর ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেলার বিস্তারিত তুলে ধরেন পর্যটন বিচিত্রার সম্পাদক ও এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।
আয়োজকেরা জানান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে এবারের মেলায় বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। তিনটি হলে প্রায় ৩০০টি বুথে এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের পর্যটন পণ্য, সেবা ও ভ্রমণ গন্তব্য তুলে ধরবে।
মেলায় থাকছে হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, এয়ারলাইনস, সরকারি-বেসরকারি পর্যটন প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও মিশনের অংশগ্রহণ। নিজেদের সেবা প্রদর্শনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় ভ্রমণ প্যাকেজ ও বিশেষ অফারও থাকবে।
এবারের মেলার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘ডেস্টিনেশন বাংলাদেশ শোকেজ’, ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম শোকেজ’ এবং ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম ইনভেস্টমেন্ট শোকেজ’। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন গন্তব্য, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুযোগ এবং দেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে।
শুধু প্রদর্শনী নয়, পর্যটন খাতের ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও বিনিয়োগ বাড়াতেও মেলায় থাকছে নানা আয়োজন। বিটুবি সেশন, সেমিনার, ডেস্টিনেশন প্রেজেন্টেশন, প্যানেল আলোচনা, প্রোডাক্ট প্রমোশন ও নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন।
মেলার তিন দিনই সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক আয়োজন। বাংলাদেশ, নেপাল ও ফিলিপাইনের শিল্পীরা এসব অনুষ্ঠানে নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরবেন।
সংবাদ সম্মেলনে মহিউদ্দিন হেলাল বলেন, এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার দেশি-বিদেশি পর্যটন অংশীজনদের মধ্যে ব্যবসায়িক সংযোগ বাড়ানো, বাংলাদেশের পর্যটন পণ্যের প্রচার এবং পর্যটন খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথি মো. সামীমুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ মেলা দেশের পর্যটন সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে সহায়ক হবে।
তিনি জানান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় মেলার অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন মেলায় সার্বিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মালদ্বীপ ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিসহ মেলার অংশীদার, স্পনসর প্রতিষ্ঠান এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত