ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২:৪৩ এএম
২৭ দিন ধরে আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসছিল নৌকাটি। গন্তব্য ছিল স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ। গাম্বিয়া থেকে ১২৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে যাত্রা করা সেই নৌকায় শেষ পর্যন্ত জীবিত পাওয়া গেছে মাত্র ৪৪ জনকে। উদ্ধারকারীরা নৌকার ভেতর পাঁচটি মরদেহ পেয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘ এই সমুদ্রযাত্রায় ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্পেনের সংবাদ সংস্থা ইএফই জানিয়েছে, গত ৭ আগস্ট গাম্বিয়া থেকে নৌকাটি যাত্রা করে। যাত্রীদের মধ্যে চার নারী ও একটি শিশুও ছিল। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নৌকাটির সন্ধান পাওয়া যায়। কয়েক দিন ধরে নৌকাটি সাগরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভেসে ছিল।
উত্তাল সমুদ্রের কারণে নৌকায় পাওয়া পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আরগুইনেগুইনের জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, মরদেহগুলোর মধ্যে এক শিশু ও দুই নারী ছিলেন।
জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সবাই গাম্বিয়া ও মালির পুরুষ নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দীর্ঘদিন খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে থাকায় তাদের অনেকেই মারাত্মক পানিশূন্যতায় ভুগছেন। কয়েকজন বাধ্য হয়ে সমুদ্রের পানি পান করায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্পেনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গার্ডিও সিভিল জানিয়েছে, নৌকাটির গায়ে থাকা চিহ্ন ৭ আগস্ট গাম্বিয়া থেকে যাত্রা করা একটি নৌকার সঙ্গে মিলে গেছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্যেও একই তথ্য পাওয়া গেছে। তারা জানিয়েছেন, শতাধিক যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করার পর পথেই একের পর এক সহযাত্রী মারা যান।
সমুদ্র উদ্ধার সংস্থা সালভামেন্তো মারিতিমোর একটি বিমান বুধবার বিকেলে গ্রান কানারিয়া থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে নৌকাটিকে শনাক্ত করে। পরে মধ্যরাতে উদ্ধারকারী জাহাজ গুয়ারদামার উরানিয়া সেখানে পৌঁছে জীবিতদের উদ্ধার করে।
পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার সমুদ্রপথটি বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন রুট হিসেবে পরিচিত। গাম্বিয়া থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। ছোট ও অনিরাপদ নৌকায় এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে ইঞ্জিন বিকল, খাদ্য ও পানির সংকট, প্রবল স্রোত এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রায়ই প্রাণহানি ঘটে।
সাম্প্রতিক সময়েও এই রুটে একাধিক প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটেছে। আগস্টের শুরুতে ১৩৩ জনকে নিয়ে গাম্বিয়া থেকে যাত্রা করা একটি নৌকা ১১ দিন পর উদ্ধার করা হয়। ২২ জুলাই ১৬৫ জনকে বহনকারী আরেকটি নৌকা ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছালে একজনের মৃত্যু হয় এবং ১৫ জন আহত হন।
এর আগে জানুয়ারিতে গাম্বিয়ার উপকূলে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর ৯৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের দাবি ছিল, নৌকাটিতে প্রায় ২০০ জন যাত্রী ছিলেন। ফলে ওই ঘটনায় প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত