নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬ | ২:২৫ পিএম
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সর্বশেষ এয়ার সেফটি লিস্টে নিষিদ্ধ বিমান সংস্থার সংখ্যা বেড়ে ১৫৪টিতে পৌঁছেছে। নিরাপত্তা মানদণ্ডে ঘাটতির কারণে সম্প্রতি আলজেরিয়ার বিমান সংস্থা ‘এয়ার এক্সপ্রেস আলজেরিয়া’কে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
৯ জুন প্রকাশিত এয়ার সেফটি লিস্টের ৪৮তম হালনাগাদে সংস্থাটিকে যুক্ত করা হয়। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা মান অনুসরণে ব্যর্থতা এবং পরিচালনাগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে সংস্থাটি ইইউভুক্ত দেশগুলোর আকাশসীমায় উড়োজাহাজ পরিচালনার অনুমতি হারিয়েছে।
বর্তমানে ১৬টি দেশের ১২৬টি বিমান সংস্থা নিজ নিজ দেশের দুর্বল নিরাপত্তা তদারকির কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, কঙ্গো, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, জিবুতি, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, নেপাল, সাও তোমে ও প্রিন্সিপে, সিয়েরা লিওন, সুদান, সুরিনাম এবং তানজানিয়া। এছাড়া অ্যাঙ্গোলার অধিকাংশ বিমান সংস্থাও নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে রাশিয়ার ২২টি বিমান সংস্থাও ইইউর কালো তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি এয়ার জিম্বাবুয়ে, অ্যাভিওর এয়ারলাইন্স, ইরান আসেমান এয়ারলাইন্স, ফ্লাই বাগদাদ এবং ইরাকি এয়ারওয়েজের ওপরও নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। তবে ইরান এয়ার ও উত্তর কোরিয়ার এয়ার কোরিও নির্দিষ্ট কিছু উড়োজাহাজের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে পরিচালনার অনুমতি পেয়ে আসছে।
সর্বশেষ তালিকায় ইতিবাচক খবরও রয়েছে। দীর্ঘদিনের সংস্কার ও নিরাপত্তা তদারকি ব্যবস্থার উন্নয়নের স্বীকৃতি হিসেবে কিরগিজস্তানের সব বিমান সংস্থাকে নিষিদ্ধ তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে ইইউ। প্রায় দুই দশক পর দেশটির বিমান খাতের জন্য এটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০০৬ সালে চালু হওয়া ইইউ এয়ার সেফটি লিস্ট বিশ্বব্যাপী বিমান নিরাপত্তা মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে পরিচিত। ইউরোপীয় কমিশন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি যৌথভাবে তালিকাটি তদারকি করে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নিরাপত্তা মান পূরণে ব্যর্থ হলে কোনো দেশ বা বিমান সংস্থার বিরুদ্ধে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত