নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬ | ৫:২৩ এএম
দেশের এভিয়েশন খাতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ (এএফসি) ২০২৬। ‘ওয়ান স্কাই, ওয়ান ফিল্ড, ওয়ান চ্যাম্পিয়ন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই দুই দিনব্যাপী ফুটসাল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে দেশি-বিদেশি ১৬টি এয়ারলাইন্স। টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৪ জুলাই।
শুক্রবার রাজধানীর গুলশান ইউথ ক্লাব টার্ফ মাঠে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা এবং ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো।
এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি) এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে। টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এনভয়-শেলটেক এভিয়েশন এবং পাওয়ার্ড বাই ভিআইপি মোটরস।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, বাংলাদেশে ফুটবল নিয়ে মানুষের আবেগ ও ভালোবাসা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে যে উন্মাদনা দেখা যায়, তা বিশ্বজুড়েই পরিচিত। এমন আয়োজন দেশের ফুটবল সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, একদিন বাংলাদেশের মানুষও নিজেদের জাতীয় ফুটবল দলকে একই রকম আবেগ নিয়ে উদযাপন করবে। খেলাধুলার বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো বলেন, ব্রাজিলিয়ানদের কাছে ফুটবল শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি আনন্দ ও উদযাপনের অংশ। জয় গুরুত্বপূর্ণ হলেও খেলাটিকে উপভোগ করাই সবচেয়ে বড় বিষয়। তিনি ফুটবলপ্রেমীদের উদ্দেশে বলেন, সমর্থন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন সবসময় মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা বলেন, ফুটবল এমন একটি খেলা, যা ভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন গড়ে তোলে। তিনি বাংলাদেশের ফুটবলের আরও উন্নতি এবং তরুণ খেলোয়াড়দের এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, এই টুর্নামেন্ট শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়; এটি এভিয়েশন খাতের দেশি-বিদেশি অংশীদারদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, সহযোগিতা ও যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার একটি সুযোগ। তার মতে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতেও এমন উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ার বলেন, গত এক দশকে দেশের এভিয়েশন খাত দ্রুত এগিয়েছে। এই খাতের সঙ্গে যুক্ত দেশি-বিদেশি পেশাজীবীদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রের বাইরেও সৌহার্দ্য ও যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন থেকেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
টুর্নামেন্ট পরিচালক ও এটিজেএফবির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আদনান রহমান বলেন, এএফসি-২০২৬ কেবল একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা নয়, বরং এভিয়েশন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্প্রীতি, নেটওয়ার্কিং ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর একটি উদ্যোগ। ভবিষ্যতে এটিকে এভিয়েশন খাতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বার্ষিক ক্রীড়া আসরে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে আয়োজকরা।
এবারের আসরে অংশ নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার, এয়ার অ্যাস্ট্রা, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, সৌদিয়া, টার্কিশ এয়ারলাইন্স, এয়ার অ্যারাবিয়া, ইন্ডিগো, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স, এয়ার ইন্ডিয়া, থাই এয়ারওয়েজ, এয়ারএশিয়া, সিল্কওয়ে ওয়েস্ট এয়ারলাইন্স এবং ফ্লাই দুবাই।
টুর্নামেন্টের সহ-স্পন্সর হিসেবে রয়েছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ফার্স্টট্রিপ, ওয়ার্ক স্টেশন এবং প্লিয়াদিশ বাংলাদেশ লিমিটেড। স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ঢাকা এয়ারলাইন্স ক্লাব। এছাড়া ক্রাউন প্লাজা ঢাকা-গুলশান, এভিয়েশন এক্সপ্রেস, ওয়াদা ইনস্যুর, ট্রাভেল পোর্ট, ফেমাস স্পেশালাইজড হসপিটাল ও ফেমাস ক্রিয়েশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই আয়োজনের সহযোগী হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত