নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬ | ২:৫৩ এএম
দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। বহর সম্প্রসারণের বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৭ সালে একসঙ্গে ২১টি একেবারে নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ যুক্ত করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় ১ দশমিক ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা) বিনিয়োগের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পে অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি এয়ারক্রাফট লিজিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন উড়োজাহাজগুলো সংগ্রহ করবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের কাছে পাঠানো এয়ারলাইন্সটির এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন প্রজন্মের এই বোয়িং উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ার পর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে ইউএস-বাংলার। এসব বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রীসেবা ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই বহর সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগামী ২৯ জুলাই রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বিশেষ অনুষ্ঠানে যৌথভাবে দেবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও বোয়িং। অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক লিজিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ দেশ-বিদেশের এভিয়েশন খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু একটি এয়ারলাইন্সের বহর বৃদ্ধির উদ্যোগ নয়; বরং বাংলাদেশের বিমান পরিবহন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক আকাশপথের বড় একটি অংশ বিদেশি এয়ারলাইন্সের দখলে থাকায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর সক্ষমতা বাড়লে আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি পাবে, কমবে বিদেশি ক্যারিয়ারের ওপর নির্ভরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিও লাভবান হবে।
নতুন ২১টি উড়োজাহাজ পরিচালনার ফলে পাইলট, প্রকৌশলী, কেবিন ক্রু, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মী, ডিসপ্যাচারসহ বিভিন্ন কারিগরি খাতে হাজারো নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে দেশের তরুণদের জন্য এভিয়েশন খাতে পেশাগত সম্ভাবনাও আরও বিস্তৃত হবে।
নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের কেবিন ইন্টেরিয়র, প্রিমিয়াম আসন, ওয়্যারলেস ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট এবং ইন-ফ্লাইট ওয়াই-ফাই সুবিধা থাকবে। যাত্রীরা স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপের মাধ্যমে আকাশে বসেই ইন্টারনেট ব্যবহার, বার্তা আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক কনটেন্ট উপভোগ করতে পারবেন। বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে এ ধরনের প্রযুক্তি সংযোজন যাত্রীসেবার মানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালে এক ক্যালেন্ডার বছরে ২১টি নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার মাধ্যমে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স বৈশ্বিক এভিয়েশন অঙ্গনেও একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে যাচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন হলে এটি শুধু একটি এয়ারলাইন্সের সম্প্রসারণ নয়, বরং বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পের সক্ষমতা, প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হয়ে উঠবে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত