নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬ | ১:৫৬ পিএম
সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মর্যাদা বহন করলেও বিদেশি এয়ারলাইনসের নিয়মিত ফ্লাইটের অভাবে এর পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ একাধিক বিদেশি এয়ারলাইনস সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় বিমানবন্দরটিকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
গত এক দশকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। রানওয়ে সম্প্রসারণ, আধুনিক কার্গো কমপ্লেক্স ও ওয়্যারহাউস নির্মাণ, নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল চালু এবং বড় উড়োজাহাজ পরিচালনার সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হয়েছে। তবে বিদেশি এয়ারলাইনসের সীমিত উপস্থিতির কারণে এ সক্ষমতার পুরোপুরি ব্যবহার সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সিলেট থেকে লন্ডন, ম্যানচেস্টার, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, শারজাহ ও আবুধাবি রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এছাড়া আগামী আগস্ট থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস মক্কা ও মদিনা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে।
বিদেশি এয়ারলাইনসের মধ্যে ফ্লাইদুবাই ২০১৫ সালে প্রথম সিলেট-দুবাই রুটে ফ্লাইট চালু করলেও বাণিজ্যিক কারণে ২০১৮ সালে সেবা বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে সংস্থাটি পুনরায় এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এয়ার আরাবিয়া সিলেট-দুবাই রুটে ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি ওমানভিত্তিক স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইনস সালামএয়ার আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সিলেট-মাস্কাট রুটে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করেছে। এটি বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ভ্রমণ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বিকল্প যাতায়াতের সুযোগ বাড়াবে।
সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশের সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট পুনরায় চালু হওয়াও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন বিদেশি এয়ারলাইনসের সংযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক রুট বৃদ্ধির মাধ্যমে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত হতে পারে।
বিমান খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশি এয়ারলাইনসের নিয়মিত ফ্লাইট চালু হলে যাত্রীদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া ও অধিক গন্তব্যের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে কার্গো পরিবহন আরও সহজ হওয়ায় রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রবাসীসেবা উন্নয়ন, পর্যটন বিকাশ এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখন কেবল একটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর নয়, বরং আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগের একটি কার্যকর কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বিদেশি এয়ারলাইনসের আগমন সেই যাত্রাকে আরও গতিশীল করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত