ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬ | ৬:২২ এএম
জাপানে ব্যবসা পরিচালনার ভিসার নিয়ম আরও কঠোর করায় দেশটিতে বসবাসরত অনেক বিদেশি উদ্যোক্তা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। নতুন শর্ত পূরণ করতে না পারলে তাদের ভিসা নবায়ন নাও হতে পারে, এমনকি জাপান ছাড়তেও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় সময় বুধবার প্রকাশিত একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ভিসানীতির ফলে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিদেশি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন।
টোকিওর ওকুবো এলাকায় নেপালি খাবারের একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন ৩৮ বছর বয়সী নেপালি উদ্যোক্তা বুধাথোকি সামঝানা। তিনি বলেন, জাপান ও নেপালের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু নতুন নিয়মে সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
তিনি বলেন, আমি সবসময় জাপান ও নেপালের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হতে চেয়েছিলাম। এখন মনে হচ্ছে সেই স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে।
শ্রমিক সংকট ও জনসংখ্যা হ্রাসের মতো সমস্যায় ভুগলেও জাপানে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব জোরালো হয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের শেষ দিকে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ব্যবসা পরিচালনার ভিসার শর্ত আরও কঠোর করে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, ব্যবসা পরিচালনার ভিসা পেতে ন্যূনতম মূলধনের পরিমাণ ৫০ লাখ ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটি ইয়েন (প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার মার্কিন ডলার) করা হয়েছে।
বুধাথোকি সামঝানা বলেন, এত বড় অঙ্কের মূলধন সংগ্রহ করা ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব।
তিনি ২০১৬ সালে শিক্ষার্থী হিসেবে জাপানে যান। কয়েক বছর সঞ্চয়ের পর ২০২৩ সালে প্রথম রেস্তোরাঁ চালু করেন এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৃতীয় রেস্তোরাঁ উদ্বোধন করেন। এরপর প্রায় এক দশক পর নিজের ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে নেপাল থেকে জাপানে নিয়ে আসতে সক্ষম হন।
তিনি বলেন, মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কারণ ভিসা নবায়ন না হলে তার শিক্ষাজীবনও অনিশ্চয়তায় পড়বে।
একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা মনীশ কুমার। প্রায় ৩০ বছর ধরে জাপানে বসবাস করলেও সম্প্রতি তাকে জানানো হয়েছে, তার ব্যবসা পরিচালনার ভিসা নবায়ন করা হবে না।
ভিসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এখন ভিসা নবায়নের জন্য কর পরিশোধের প্রমাণপত্র, সামাজিক বীমার নথিসহ অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হচ্ছে।
নতুন ভিসানীতির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ একটি অনলাইন আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।
২০২৪ সালের মে মাসে জাপানের বিচার মন্ত্রণালয় দেশটিকে “অবৈধ বিদেশিমুক্ত” করার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এরপর থেকেই অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে ধাপে ধাপে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের উচ্চকক্ষের নির্বাচনে “জাপানিজ-ফার্স্ট” নীতির পক্ষে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক শক্তিগুলোর উত্থানের পর বিদেশিদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।
তবে প্রশাসনিক নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কাজুকি ইউদা ও দাইসুকে কোমোরি মনে করেন, ভিসার অপব্যবহার ঠেকানোই নতুন নীতির মূল উদ্দেশ্য হলেও এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা ছোট উদ্যোক্তা, রেস্তোরাঁ মালিক এবং নতুন বিদেশি ব্যবসায়ীদের ওপর।
এ ছাড়া নতুন বিধানে ব্যবসা পরিচালনার ভিসাধারীদের অন্তত একজন জাপানি নাগরিক অথবা স্থায়ী বাসিন্দাকে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার শর্তও রাখা হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকটে থাকা জাপানে এই শর্ত পূরণ করাও অনেক বিদেশি উদ্যোক্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত