ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৫ অগাস্ট ২০২৬ | ৫:৪৯ এএম
বাণিজ্য ও পর্যটন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পরে আশ্রয়ের আবেদন করা প্রায় ২ লাখ বিদেশির ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে সবচেয়ে বড় পরিসরে ভিসা বাতিলের ঘটনা হতে পারে এটি। তবে এ উদ্যোগ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
এপি জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ নথি এবং দুই কর্মকর্তার বক্তব্য থেকে এ পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বি-১ ও বি-২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করা বিদেশিদের একটি বড় অংশকে এর আওতায় আনা হবে। পরিকল্পনাটি পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগোট এপির কাছে পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদি দর্শনার্থী হিসেবে অ-অভিবাসী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পরে আশ্রয়ের আবেদন করে স্থায়ীভাবে বসবাসের চেষ্টা করা বিদেশিদের শনাক্ত করা হচ্ছে। তাদের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে ঠিক কতজনের ভিসা বাতিল করা হবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে রাজি হননি পিগোট। তিনি জানান, প্রক্রিয়াটি চলমান থাকায় চূড়ান্ত সংখ্যা পরে নির্ধারিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ ভিসা সাধারণত ব্যবসায়িক কাজে এবং বি-২ ভিসা পর্যটন, স্বজনদের সঙ্গে দেখা বা চিকিৎসার মতো অ-অভিবাসী ভ্রমণের জন্য দেওয়া হয়।
তবে ২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই দুই ধরনের ভিসায় কতজন বিদেশি যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন এবং তাদের মধ্যে কতজন পরে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, সে বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারও ভিসা বাতিল হলেই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে—বিষয়টি এমন নয়। অনেককে অন্য একটি অভিবাসন বা আইনি অবস্থানের আওতায় নেওয়া হতে পারে। তবে তারা ব্যবসায়ী বা পর্যটক হিসেবে বি-১ ও বি-২ ভিসার সুবিধা হারাবেন।
এদিকে বর্তমানে বি-১ ও বি-২ ভিসার আবেদনকারীদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন না করার এবং ভ্রমণ শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে।
২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ও অভিবাসন নীতি আরও কঠোর হয়েছে। এ সময়ে বহু বিদেশির ভিসা বাতিল, ভিসা ফি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আবেদন পর্যালোচনায় অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের মানুষ ‘ভুয়া আশ্রয় আবেদন’-এ অতিষ্ঠ। তার ভাষ্য, অভিবাসন আইনের সুযোগ নিয়ে আশ্রয়ের আবেদনকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকার পথ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত