নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬ | ৭:০৭ এএম
যাত্রী সংকট ও ধারাবাহিক লোকসানের কারণে আগামী ১৬ জুলাই থেকে যশোর-ঢাকা রুটে সব ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। এ সিদ্ধান্তে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যশোর বিমানবন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, একসময় দেশের ব্যস্ততম আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল যশোর। পদ্মা সেতু চালুর আগে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৮টি ফ্লাইট পরিচালিত হতো এবং দুই হাজারের বেশি যাত্রী এই রুটে যাতায়াত করতেন। বর্তমানে পুরো সপ্তাহে মাত্র নয়টি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ইউএস-বাংলা প্রতিদিন একটি করে ফ্লাইট চালালেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সপ্তাহে মাত্র দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পদ্মা সেতু চালুর পর সড়কপথে যাতায়াত সহজ ও দ্রুত হওয়ায় অনেক যাত্রী বিমান ভ্রমণের পরিবর্তে বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার করছেন। ফলে ঢাকা-যশোর রুটে যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
স্থানীয় এক ট্রাভেল এজেন্সি মালিক জানান, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৭০ থেকে ৮০ জন যাত্রী এ রুটে বিমান ব্যবহার করছেন। তার মতে, তুলনামূলক স্বল্প দূরত্বের এই রুটে বিমানভাড়া বেশি হওয়াও যাত্রী কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
ফ্লাইট সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিমানবন্দরকেন্দ্রিক অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়েছে। ট্রাভেল এজেন্সি, ভাড়ায় চালিত গাড়ির চালক, হোটেল ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, যশোরের বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায় এই রুটে বিমান যোগাযোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতারা বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দর ও নওয়াপাড়া নদীবন্দরকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে ব্যাপক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে বিমান যোগাযোগ সীমিত হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত