ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২০ অগাস্ট ২০২৬ | ১১:২৫ এএম
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রীসেবার আড়ালে এক শ্রেণির কেবিন ক্রু ও বিমানকর্মীকে ব্যবহার করে বিদেশি মুদ্রা ও সোনা পাচারের অভিযোগ উঠেছে। বিমানবন্দরের সাধারণ যাত্রীদের তুলনায় তুলনামূলক কম তল্লাশি, আলাদা চলাচলের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক ট্রানজিট এলাকায় অবাধ যাতায়াত—এসব সুবিধাকেই কাজে লাগাচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্রগুলো।
সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কয়েকজন কেবিন ক্রুর বিদেশি ভাতা হুন্ডির মাধ্যমে দেশে আনার অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিভাগ এবং পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট। এরই মধ্যে এ ঘটনায় বিমানের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ১৪ মে দুবাইয়ে জনতা ব্যাংকের শাখা থেকে ১৯৬ জন কেবিন ক্রুর ওভারসিজ অ্যালাওয়েন্সের বিপরীতে প্রায় ১৩ লাখ ৪৬ হাজার দিরহাম একটি চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়। চেকটি ইস্যু করা হয়েছিল বিমানের ফ্লাইট স্টুয়ার্ড আব্দুস শাকুর মুজাহিদের নামে। পরদিন সংশ্লিষ্টরা দুবাই থেকে ঢাকায় ফিরলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের লাগেজ তল্লাশি করা হয়। তখন প্রায় ২৬ লাখ টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার হলেও উত্তোলন করা অর্থের বড় একটি অংশের হিসাব পাওয়া যায়নি।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, বাকি অর্থ হুন্ডি চক্রের মাধ্যমে দেশে পাঠানো হয়েছে। বিদেশে থাকা চক্রের সদস্যরা অর্থ গ্রহণের পর বাংলাদেশে থাকা সহযোগীদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কেবিন ক্রুদের কাছে সমপরিমাণ টাকা পৌঁছে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে গত ২২ এপ্রিলও ১৬০ জন কেবিন ক্রুর ওভারসিজ অ্যালাওয়েন্সের প্রায় ৯ লাখ ৭৫ হাজার দিরহামের বিল একজন ফ্লাইট স্টুয়ার্ডের নামে ইস্যু করার অভিযোগ ওঠে। এ ক্ষেত্রেও একটি চেকের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে হুন্ডির মাধ্যমে দেশে পাঠানোর অভিযোগ তদন্তাধীন।
শুধু অর্থ পাচার নয়, কেবিন ক্রুদের মাধ্যমে সোনা পাচারের ঘটনাও অতীতে সামনে এসেছে। কয়েক বছর আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১১ কেজি সোনাসহ বিমানের এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট আটক হন। ২০২৩ সালে সৌদি আরবের বিমানবন্দরে সাতটি সোনার বারসহ এক কেবিন ক্রু আটক হওয়ার ঘটনাও ঘটে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে শাহজালালে সোনার বারসহ আরেক কেবিন ক্রু আটক হন।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের মতে, কেবিন ক্রুদের জন্য থাকা আলাদা প্রবেশ ও বহির্গমন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক ট্রানজিট এলাকায় চলাচলের সুবিধা পাচারকারীদের কাছে তাদের আকর্ষণীয় করে তুলেছে। একই রুটে নিয়মিত যাতায়াতের কারণে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা সম্পর্কে তাদের ধারণাও তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতিতে সন্দেহভাজন কেবিন ক্রুদের ব্যাংক লেনদেন ও সম্পদের হিসাব নজরদারিতে আনা, ডিউটি শেষে আকস্মিক দেহ ও লাগেজ তল্লাশি এবং ঢাকা, দুবাই ও দোহার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
অভিযোগগুলোর পাশাপাশি বিমানের পদোন্নতি প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্তে গত ৩ আগস্ট প্রকৌশল শাখার কয়েকটি পদে পদোন্নতি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত