ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২১ অগাস্ট ২০২৬ | ১২:২৭ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বদলে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের চিত্র। একসময় ইউরোপ, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দীর্ঘপথের যাত্রায় দুবাই, দোহা ও আবুধাবি ছিল প্রধান ট্রানজিট হাব। নিরাপত্তা উদ্বেগে এখন অনেক যাত্রী এসব রুট এড়িয়ে সরাসরি ফ্লাইট কিংবা এশিয়ার বিকল্প বিমানবন্দর বেছে নিচ্ছেন।
অল্টন এভিয়েশন কনসালট্যান্সির হিসাবে, যুদ্ধের পর এশিয়া ও পশ্চিম ইউরোপের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে চলাচলকারী ট্রানজিট যাত্রী এপ্রিল মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৭ শতাংশ কমেছে।
এর বিপরীতে বাড়ছে এশিয়ার বড় বিমানবন্দরগুলোর ব্যস্ততা। দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ট্রানজিট যাত্রী বেড়েছে ১৮ শতাংশ। ইউরোপগামী রুটে এই প্রবৃদ্ধি ৬৩ শতাংশ। একই সময়ে হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক যাত্রী বেড়েছে ১১ শতাংশের বেশি এবং তাইওয়ানের তাওইউয়ান বিমানবন্দরে প্রায় ১০ শতাংশ।
সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরও বাড়তি চাহিদার সুবিধা পাচ্ছে। মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে বিভিন্ন এয়ারলাইন সিঙ্গাপুরের সঙ্গে লন্ডন, মিউনিখ, প্যারিস ও সিডনির মতো শহরের ৮০০টির বেশি অতিরিক্ত ফ্লাইট যুক্ত করেছে।
পরিবর্তিত রুটের সুফল পাচ্ছে এশিয়ার এয়ারলাইনগুলোও। ক্যাথে প্যাসিফিকের যাত্রী সংখ্যা মার্চে ২৪ শতাংশ এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের ৭ শতাংশ বেড়েছে। টার্কিশ এয়ারলাইনস, লুফথানসা ও এয়ার ফ্রান্সও এশিয়াগামী রুটে সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
তবে এই পরিবর্তন কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যাত্রীদের একটি অংশ আবার দুবাই, দোহা ও আবুধাবির মতো পুরোনো ট্রানজিট হাব বেছে নিতে পারেন।
অর্থাৎ, যুদ্ধ আপাতত শুধু আকাশপথের নিরাপত্তাই বদলাচ্ছে না, বিশ্বের দীর্ঘপথের যাত্রীদের যাত্রাবিরতির মানচিত্রও বদলে দিচ্ছে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত