ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬ | ৩:৪২ এএম
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং তেলের উচ্চমূল্যের প্রভাবে নতুন সংকটে পড়েছে ইউরোপের বিমান পরিবহন খাত। জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আর্থিকভাবে দুর্বল এয়ারলাইন্সগুলোর সামনে পুনর্গঠন, অধিগ্রহণ বা দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীরা।
ব্রিটিশ স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন্স ইজিজেট যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি কনসোর্টিয়ামের অধিগ্রহণ আলোচনার কাছাকাছি রয়েছে। একই সময়ে লাটভিয়ার এয়ারবাল্টিক স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের চেষ্টা করছে, আর নরওয়ের নর্স আটলান্টিক তাদের ব্যবসায়িক কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করছে।
করোনা মহামারির পর অনেক এয়ারলাইন্স আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়ালেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তাদের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন শিল্প ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক মুনাফার পূর্বাভাস প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে।
আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইন্টারপাথের ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের প্রধান বারেমা বোকুম জানিয়েছেন, বর্তমানে ইউরোপের চার থেকে পাঁচটি বড় এয়ারলাইন্স পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে তাদের সঙ্গে কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জেট জ্বালানির দাম বেশি থাকলে তা এয়ারলাইন্সগুলোর মোট পরিচালন ব্যয়ের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি হয়ে যেতে পারে। যদিও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জ্বালানির দাম কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে, তবু মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
এ অবস্থায় অনেক এয়ারলাইন্স নতুন রুট ও বহর সম্প্রসারণে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এয়ারবাসও যুদ্ধ ও বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনার প্রভাবে আগামী ২০ বছরের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের চাহিদার পূর্বাভাস কমিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় এয়ারলাইন্সগুলোর তুলনায় ছোট ও আর্থিকভাবে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমে প্রত্যাশিত আয় না হলে শীত মৌসুমে তাদের টিকে থাকা কঠিন হতে পারে।
বিশ্ব বিমান পরিবহন সংস্থা আইএটিএর মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশও সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানির দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকলে কিছু এয়ারলাইন্স ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান বড় এয়ারলাইন্সের সঙ্গে একীভূত হতে পারে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত