নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬ | ৪:১৯ পিএম
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা–নিউ ইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও)-এর নিরাপত্তা মূল্যায়নের ওপর। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান পূরণ করে ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা অর্জন করতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পথ উন্মুক্ত হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম জানিয়েছেন, নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়া, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান অর্জন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ২০২৮ সালের শুরুতে ঢাকা–নিউ ইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনার সফলতা নির্ভর করবে আইকাওর নিরাপত্তা অডিটে বাংলাদেশের ফলাফলের ওপর।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত আইকাও বাংলাদেশে প্রি-অডিট পরিচালনা করবে। এতে দেশের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তদারকি কাঠামো, আইন, জনবল, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক মান বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে। এরপর ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত নিরাপত্তা অডিট, যার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা পাবে কি না।
বেবিচক জানিয়েছে, অডিট প্রস্তুতির প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি প্রস্তুতি আগামী আগস্টের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে নতুন এক্স-রে মেশিন, উন্নত স্ক্যানার এবং অন্যান্য আধুনিক সরঞ্জামের ফ্যাক্টরি অ্যাকসেপ্টেন্স টেস্ট (এফএটি) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব সরঞ্জাম আগস্টে দেশে পৌঁছাবে এবং সেপ্টেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।
এর আগে ২০১৮ সালের আইকাও নিরাপত্তা অডিটে বাংলাদেশ ৬৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ স্কোর অর্জন করেছিল। এবার লক্ষ্য ৭৫ শতাংশের বেশি স্কোর পাওয়া। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট (ডিএফটি) পরিচালিত অডিটে বাংলাদেশ কার্গো নিরাপত্তায় ১০০ শতাংশ এবং যাত্রী নিরাপত্তায় ৯৩ থেকে ৯৪ শতাংশ নম্বর পেয়েছে, যা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেবিচকের সামনে এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে ফ্লাইট অপারেশনস ইন্সপেক্টরের (এফওআই) সংকট এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার আইনি স্বাধীনতা নিশ্চিত করা বড় বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে। পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল না থাকলে নিরাপত্তা তদারকিতে প্রভাব পড়তে পারে।
অ্যাভিয়েশন বিশ্লেষকদের মতে, আইকাওর নিরাপত্তা অডিটে ভালো ফল অর্জন করতে পারলে শুধু ঢাকা–নিউ ইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর পথই সুগম হবে না, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল খাতে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা, কোডশেয়ার চুক্তি এবং বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনাও বাড়বে। তবে প্রত্যাশিত মান অর্জনে ব্যর্থ হলে নতুন আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, চলমান প্রস্তুতি, আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংযোজন এবং কার্যকর তদারকির মাধ্যমে বাংলাদেশ আসন্ন আইকাও নিরাপত্তা অডিটে সফল হবে এবং বহু প্রতীক্ষিত ঢাকা–নিউ ইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর পথ বাস্তবে রূপ নেবে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত