ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬ | ৩:৫৭ এএম
গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমে বিশ্বজুড়ে বিমান ভ্রমণের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিমানের টিকিটের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক—উভয় রুটেই ভাড়া বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন বাজেট ভ্রমণকারীরা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠান কায়াকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের গড় ভাড়া সর্বোচ্চ ৩১ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক রুটের গড় বিমান ভাড়াও প্রায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, টিকিটের দাম বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, বিমান পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জেট ফুয়েলের দাম বাড়া অন্যতম। বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশই জ্বালানি খাতে ব্যয় হয়। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে টিকিটের মূল্যে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বছরের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। এতে বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইনের পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের একটি অংশ যাত্রীদের ওপর চাপাতে বাধ্য হয় অনেক প্রতিষ্ঠান।
তবে ভাড়া বাড়লেও ভ্রমণের আগ্রহ কমেনি। ছুটি বা পারিবারিক প্রয়োজনের কারণে অনেক যাত্রী শেষ মুহূর্তে টিকিট বুকিং করছেন। তবে শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই তাদের বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
বাড়তি ব্যয় এড়াতে অনেক ভ্রমণকারী বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন। স্বল্প দূরত্বে ট্রেনে যাতায়াতের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে সড়কপথে ভ্রমণের প্রবণতাও অব্যাহত রয়েছে। তবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার আগের তুলনায় কাছাকাছি গন্তব্য বেছে নিচ্ছে, যাতে ভ্রমণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত