নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৬ | ১২:৫৯ পিএম
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা জানিয়েছে সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) এবং একটি জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি আগামী ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কার্যক্রম সম্পন্ন হলে চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা সম্ভব হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা চলছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ও কার্গো পরিবহন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, টার্মিনালটির জন্য দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলার নিয়োগের দায়িত্বও জাপানি কনসোর্টিয়াম পালন করবে। ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, রাজস্ব ভাগাভাগি এবং অন্যান্য পরিচালনাগত বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় উভয় পক্ষ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি অর্জন করেছে।
জাপানি কনসোর্টিয়ামে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, নিপ্পন কোয়েই এবং নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করপোরেশন। টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চূড়ান্ত করতে সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে দুই দিনব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আরোহণ ফি, অগ্রিম অর্থ প্রদান এবং রাজস্ব বণ্টনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এর আগে গত ৩ এপ্রিল বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে এ বিষয়ে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরবর্তী আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় এখন চুক্তি স্বাক্ষরের পথ অনেকটাই সুগম হয়েছে।
প্রায় ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের আধুনিক এই টার্মিনাল চালু হলে বছরে অতিরিক্ত ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি প্রায় ৫ লাখ টন কার্গো পরিবহনের সক্ষমতাও যুক্ত হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর মাধ্যমে দেশের বিমান পরিবহন খাতে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত