নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ অগাস্ট ২০২৬ | ৫:৩৯ এএম
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রক্রিয়ায় গতি এসেছে। পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিতে একটি জাপানি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর এখন চলছে কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়ন। আগামী মাসের শুরুতেই চূড়ান্ত চুক্তি হতে পারে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, সরকারের লক্ষ্য আগামী ১৬ ডিসেম্বর সীমিত পরিসরে তৃতীয় টার্মিনালের সফট ওপেনিং করা। এ লক্ষ্যে টার্মিনালের বিভিন্ন সিস্টেম পরীক্ষা, জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তবে টার্মিনাল চালুর পাশাপাশি বড় আর্থিক বিষয়ও সামনে এসেছে। প্রস্তাবিত আয় বণ্টন কাঠামো অনুযায়ী, টার্মিনাল থেকে অর্জিত আয়ের ৭৩ শতাংশ পাবে জাপানি অপারেটর, আর বাংলাদেশ পাবে ২৭ শতাংশ। বিপুল সরকারি বিনিয়োগে নির্মিত অবকাঠামো থেকে দেশের অংশ নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম কিস্তির ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা গত জুনে পরিশোধ করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে আরও ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। এর বাইরে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এডিসি ঢাকা কনসোর্টিয়ামের প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বেবিচকের কাছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু নির্মাণকাজ শেষ হলেই টার্মিনাল চালু করা সম্ভব নয়। ইমিগ্রেশন, নিরাপত্তা, চেক-ইন, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, বোর্ডিং ও গ্রাউন্ড অপারেশনসহ প্রতিটি সেবা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে হবে।
তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মানে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রীজট, লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং সেবার ধীরগতিও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত