, , ,

ভিসানীতি পরিবর্তন, যুক্তরাষ্ট্রে কী সমস্যায় পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা?

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬ | ২:৫৪ পিএম

ভিসানীতি পরিবর্তন, যুক্তরাষ্ট্রে কী সমস্যায় পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা?

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশের শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসানীতি ও অবস্থানের নিয়ম আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নীতিমালা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে অধ্যয়নরতদের মধ্যে।

প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার মেয়াদ নির্দিষ্ট করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন, একাডেমিক কার্যক্রমে পরিবর্তন এবং পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর দেশটিতে অবস্থানের সুযোগও সীমিত করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা, পিএইচডি বা চার বছরের বেশি সময় প্রয়োজন হয়—এমন কোর্সে থাকা শিক্ষার্থীদের অবস্থানের মেয়াদ বাড়াতে আলাদা অনুমোদনের প্রয়োজন হবে এবং আবেদন করলেই তা অনুমোদিত হবে—এমন নিশ্চয়তা থাকবে না।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, নতুন নীতিমালা আগামী সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ পাঁচ বছরের পরিবর্তে চার বছর করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীর বৈধ অবস্থানের মেয়াদও চার বছরে সীমিত থাকবে। নির্ধারিত সময়ের বেশি থাকতে চাইলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বাড়ানোর আবেদন করতে হবে।

এতদিন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষমতা ছিল সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত কর্মকর্তাদের হাতে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই দায়িত্ব সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অধীনে চলে যাবে। ফলে চার বছরের বেশি সময় অবস্থানের জন্য ফেডারেল সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পরিবর্তন এবং বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ বদলের সুযোগও আগের তুলনায় সীমিত করা হবে। আর পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময়সীমা ৬০ দিনের পরিবর্তে ৩০ দিনে নামিয়ে আনা হচ্ছে। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীকে দেশে ফেরা, নতুন শিক্ষাক্রমে ভর্তি হওয়া অথবা অন্য ধরনের ভিসার জন্য আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বর্তমানে পাঁচ বছরের ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরাও নতুন ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন আইনজীবী রাজু মহাজন।

যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অনেকে মনে করছেন, নিয়মের পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও যারা নিয়ম মেনে পড়াশোনা করছেন, তাদের বড় ধরনের সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা কম। বরং যারা স্টুডেন্ট ভিসার শর্ত ভঙ্গ করেছেন, পড়াশোনা ছেড়ে অন্য কাজে যুক্ত হয়েছেন অথবা ভিসার অপব্যবহার করেছেন, তাদের ঝুঁকি বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা, পিএইচডি, গবেষণাপত্র প্রকাশে বিলম্ব বা বিভিন্ন কারণে যাদের পড়াশোনার সময়সীমা দীর্ঘ হয়, তাদের ওপর। তবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে যথাসময়ে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

উচ্চশিক্ষা শেষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান ব্যবহারিক কাজের সুযোগের মৌলিক কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলেও আবেদন ও অবস্থানসংক্রান্ত প্রক্রিয়া আরও কঠোর হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

Su Mo Tu We Th Fr Sa

© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com