ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬ | ৬:৩৭ এএম
বরগুনায় প্রকৃতিনির্ভর পর্যটনকেন্দ্র সুরঞ্জনা ইকো-ট্যুরিজম অ্যান্ড রিসোর্টে দিন দিন বাড়ছে পর্যটকের উপস্থিতি। শহরের কাছেই নদী, সবুজ প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই পর্যটনকেন্দ্রটি স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুদেরও আকর্ষণ করছে।
সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় জেলা বরগুনা নদী, জলমোহনা, চর ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। জেলার পাথরঘাটা, তালতলী ও অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থানের পাশাপাশি সুরঞ্জনা ইকো-ট্যুরিজমও পর্যটন সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলেছে।
বরগুনা শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের বড়ইতলা ফেরিঘাটসংলগ্ন এলাকায় খাকদোন ও বিষখালী নদীর তীরে গড়ে উঠেছে সুরঞ্জনা ইকো-ট্যুরিজম অ্যান্ড রিসোর্ট। লেখক, সাংবাদিক ও উদ্যোক্তা সোহেল হাফিজের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই প্রকৃতিনির্ভর পর্যটনকেন্দ্রটি জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।
গোলপাতা, নলখাগড়া, হোগলাপাতা ও কাশবন দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো এলাকা। এখানে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের পাশাপাশি পদ্ম-শাপলা, পুকুর, প্রজাপতি ও জোনাকির জন্যও তৈরি করা হয়েছে উপযোগী পরিবেশ। পাখিদের খাদ্য ও আবাসস্থল নিশ্চিত করতে রোপণ করা হয়েছে দেশীয় ফলজ বৃক্ষ, তাল ও খেজুরগাছসহ নানা প্রজাতির গাছ।
পর্যটকদের জন্য রয়েছে খোলা মাঠ, নান্দনিক মঞ্চ, আধুনিক মিলনায়তন এবং আবাসিক সুবিধা। ১১টি এসি ও নন-এসি কটেজের পাশাপাশি গ্রুপ ট্যুরের জন্য ডরমেটরি সুবিধাও রয়েছে।
পর্যটকদের মতে, শহরের কোলাহল থেকে দূরে নয়, অথচ প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর সুযোগই সুরঞ্জনার প্রধান আকর্ষণ। গাছপালা, পাখির ডাক ও শান্ত পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে।
পরিবেশকর্মী ও পর্যটন উদ্যোক্তারা বলছেন, নদী, সাগর, চর ও সবুজ প্রকৃতির অপূর্ব সমন্বয়ের কারণে বরগুনায় পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অবকাঠামো উন্নয়ন করা গেলে জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে পর্যটনশিল্প আরও বিকশিত হতে পারে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত