নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬ | ৪:৩৯ এএম
বগুড়ার এরুলিয়ায় অবস্থিত বিদ্যমান বিমানফিল্ডকে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে সেখানে একটি আধুনিক বিমান বাহিনীর ঘাঁটি এবং দক্ষ পাইলট তৈরির জন্য একটি ফ্লাইং অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টরস স্কুলে বগুড়া বিমানবন্দরের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় অংশ নেন বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিএএফ ঘাঁটি কক্সবাজারের এয়ার অফিসার কমান্ডিং এয়ার ভাইস মার্শাল এ.এফ.এম. শামীমুল ইসলাম।
সভায় এয়ার ভাইস মার্শাল এ.এফ.এম. শামীমুল ইসলাম বলেন, এরুলিয়ার বিদ্যমান বিমানফিল্ডকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে। প্রকল্পের আওতায় আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত রানওয়ে, প্রয়োজনীয় টার্মিনাল সুবিধা, পূর্ণাঙ্গ বিমানঘাঁটি এবং একটি ফ্লাইং অ্যাকাডেমি স্থাপন করা হবে। এর ফলে বেসামরিক ও সামরিক—উভয় ধরনের বিমান চলাচল এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি জানান, বিমানবন্দরটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার মানুষের জন্য আকাশপথে যাতায়াত আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের কার্গো সুবিধা চালু হলে কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য, তৈরি পোশাক এবং অন্যান্য রপ্তানিযোগ্য পণ্য দ্রুত দেশের বাইরে পাঠানো সম্ভব হবে। এতে রপ্তানি ব্যয় ও সময় কমার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দাবি ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীকেন্দ্রিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থার ওপর চাপও কিছুটা কমবে। পাশাপাশি দেশের উত্তরাঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্পায়ন, পর্যটন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় বক্তারা বলেন, শুধু বিমান পরিবহন নয়, এই প্রকল্প উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিমানবন্দরকে ঘিরে লজিস্টিকস, গুদামজাতকরণ, পরিবহন, হোটেল-পর্যটন, কার্গো সেবা এবং বিভিন্ন সহায়ক শিল্পের বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে। ফলে বগুড়া ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এভিয়েশন ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
মতবিনিময় সভায় দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা জোরদার এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বগুড়ায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি বা স্টেশন স্থাপনের বিষয়েও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলে বিমান বাহিনীর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নতুন মাত্রা পাবে।
এ ছাড়া ভবিষ্যৎ পেশাদার পাইলট তৈরির লক্ষ্যে একটি ফ্লাইং অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের বিমান চালনা প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়বে এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টরস স্কুলের অফিসার কমান্ডিং গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুসাইন মুহাম্মদ রায়হান, বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শ্রী পরিমল চন্দ্র দাস।
বগুড়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিমানঘাঁটি এবং ফ্লাইং অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসার পাশাপাশি বাংলাদেশে বিমান পরিবহন খাতের বিকেন্দ্রীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত