নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১:৪১ পিএম
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান উড্ডয়ন বন্ধ করে পৃথক রানওয়ে বা বিমানঘাঁটি নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
সংরক্ষিত নারী আসন-৪১-এর সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা ও আকাশ প্রতিরক্ষার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামোর নিরাপত্তায় বিমান বাহিনীর সক্ষমতা কার্যকর ও প্রস্তুত রাখা জরুরি।
পৃথক বিমানঘাঁটি ও রানওয়ে নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদি বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সীমিত ভূমি ও বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই বেশি বাস্তবসম্মত। এ কারণে শুধু প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য নতুন রানওয়ে নির্মাণের পরিবর্তে বিদ্যমান সুবিধাগুলো যথাযথভাবে ব্যবহারের নীতিতেই সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রবণতা বাড়লেও আবহাওয়া পূর্বাভাসে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে—এমন বক্তব্য সঠিক নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাঁচ থেকে ১০ দিনের আগাম পূর্বাভাস দেওয়ার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়, ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাতসহ বিভিন্ন দুর্যোগের সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে। পূর্বাভাস ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও নির্ভুল করতে পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, উন্নত তথ্য বিশ্লেষণ এবং দক্ষ জনবল তৈরির কাজ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সাইবার হামলা ও নতুন ধরনের বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দেশীয়ভাবে ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন এবং সমুদ্র এলাকায় নজরদারি জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অসামরিক কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণের আইনি ভিত্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনকালীন দেশের সার্বিক নিরাপত্তায় এবং ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ নির্দেশিকার আওতায় দুর্যোগ ও সংকটকালে অসামরিক প্রশাসনকে সশস্ত্র বাহিনী সহায়তা করে। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯ ধারায় অসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত