ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৩:১৪ এএম
বাংলাদেশ বিমানের বহর সম্প্রসারণে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে বিমান কেনার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গত ২৬ আগস্ট পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেছেন, বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব গ্রহণের পর পাঠানো প্রথম চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না এবং এ বিষয়ে তিনি নিজেই ‘গ্যারান্টার’ হিসেবে থাকবেন। চিঠিতে তিনি দুই দেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক সমঝোতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
ট্রাম্প জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে মার্কিন পণ্য আমদানি বাড়ানোর বিষয়ে একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি হয়। এর আওতায় বাংলাদেশ বিমানের জন্য প্রাথমিকভাবে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আরও ১১টি বিমান কেনার সুযোগ রাখা হয়।
বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশের নির্মাতার কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, বোয়িংয়ের পরিবর্তে অন্য প্রতিষ্ঠানের বিমান বহরে যুক্ত হলে বাংলাদেশ বিমানের পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। এতে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বোয়িংকে বিশ্বের শীর্ষ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আর্থিক বিবেচনায়ও এটি বাংলাদেশের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প। একই সঙ্গে বোয়িং থেকে বিমান কেনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।
এর চার দিন পর, ৩১ আগস্ট বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে বাংলাদেশের সম্মতির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে আরেকটি চিঠি দেন ট্রাম্প।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ বিমানের বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগটি ইতিবাচক। ধাপে ধাপে ২০৪০ সাল পর্যন্ত ২৫টি নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পুরোনো উড়োজাহাজের জায়গা পূরণের পাশাপাশি বিমানবহরের সক্ষমতা ও আধুনিকায়ন ধরে রাখা সম্ভব হবে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত