নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬ | ১২:১৭ পিএম
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী ও বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট সেবার মান উন্নয়নে অত্যাধুনিক ইনডোর টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন করছে সরকার। প্রায় ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের মাধ্যমে টার্মিনালজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন ৪জি এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী ৫জি সংযোগ নিশ্চিত করা হবে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় একটি আধুনিক অ্যাক্টিভ ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যান্টেনা সিস্টেম (অ্যাক্টিভ ডিএএস) স্থাপন করা হবে। এর সঙ্গে থাকবে ৭০০টি স্মল সেল এবং ৬৩৫টি ওয়াই-ফাই অ্যাক্সেস পয়েন্ট, যা টার্মিনালের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উচ্চগতির ভয়েস ও ডেটা সেবা নিশ্চিত করবে।
টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী বাসসকে জানান, প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে কার্যাদেশ দেওয়া হলে দ্রুত বাস্তবায়নকাজ শুরু হবে।
প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক যেখানে মূলত আউটডোর টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে নতুন এই প্রযুক্তি বড় ও জটিল ইনডোর স্থাপনায় নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে। রিইনফোর্সড কংক্রিট, স্টিল কাঠামো ও কাচের দেয়ালের কারণে সৃষ্ট দুর্বল সিগন্যাল, কল ড্রপ এবং ধীরগতির ইন্টারনেট সমস্যার কার্যকর সমাধান দেবে এই ব্যবস্থা।
প্রকল্পের আওতায় ইমিগ্রেশন এলাকা, চেক-ইন কাউন্টার, ভিআইপি লাউঞ্জ, এক্সপোর্ট কার্গো টার্মিনাল (ইসিটি), ইমপোর্ট কার্গো টার্মিনাল (আইসিটি) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইনডোর সুবিধাজুড়ে সমন্বিত টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা মূল টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো, ট্রান্সমিশন সিস্টেম, অ্যাক্টিভ ডিএএস, স্মল সেল ও ওয়াই-ফাই সরঞ্জাম স্থাপনে ব্যয় হবে। এছাড়া বিদ্যুৎ, প্রশিক্ষণ, পরিবহন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধিজনিত ব্যয়ের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাপ বিবেচনায় এই বিনিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার। বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বছরে প্রায় ৯১ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেন। ২০৩৫ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ১ কোটি ৮৫ লাখে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন প্রায় ১৯০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয় এবং বছরে প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৃতীয় টার্মিনালে বিদ্যমান ইনডোর নেটওয়ার্ক সীমাবদ্ধতা দূর করে এই অবকাঠামো যাত্রীসেবা, বিমানবন্দর পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে এটি দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যটন, বাণিজ্য ও বৈদেশিক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত