ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬ | ১১:৪৪ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম বিমানবন্দর ব্র্যাডলি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ জোরদার করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কানেকটিকাট ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং পর্যটনে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্র্যাডলি বিমানবন্দরের পরিচালনাকারী সংস্থা কানেকটিকাট এয়ারপোর্ট অথরিটি (সিএএ) জানিয়েছে, লন্ডনসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে ননস্টপ ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ চলছে। তবে নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত যাত্রী চাহিদা, বিমান সংস্থার আগ্রহ এবং বাণিজ্যিক সক্ষমতা নিশ্চিত করাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
সিএএর কর্মকর্তারা বলছেন, লন্ডনের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হলে কানেকটিকাটের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার যুক্তরাজ্যের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। বর্তমানে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের লন্ডনে যেতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হয়। নতুন রুট চালু হলে ভ্রমণের সময় ও ব্যয়—উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কানেকটিকাট থেকে যুক্তরাজ্যে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাজ্য অঙ্গরাজ্যটির ষষ্ঠ বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। এই বাণিজ্যের বড় অংশ এসেছে উৎপাদনশিল্প ও উচ্চপ্রযুক্তি খাত থেকে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত ফার্নবরো আন্তর্জাতিক এয়ারশোতেও কানেকটিকাটভিত্তিক জেট ইঞ্জিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছে। এর মধ্যে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ৩৩টি নতুন এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজে প্রতিষ্ঠানের জিটিএফ (গিয়ার্ড টার্বোফ্যান) ইঞ্জিন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ভবিষ্যতে আরও ৩০টি উড়োজাহাজে একই ইঞ্জিন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, এ ধরনের শিল্প ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে ব্র্যাডলি-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করবে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক ভ্রমণের পাশাপাশি পর্যটন, শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
যদিও এখনো কোনো বিমান সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দেয়নি, তবে কানেকটিকাট এয়ারপোর্ট অথরিটি আশাবাদী, প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক ও পরিচালনাগত শর্ত পূরণ হলে অদূর ভবিষ্যতেই লন্ডনের সঙ্গে সরাসরি আকাশ যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে। বাস্তবায়িত হলে এটি কানেকটিকাটের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত