ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৭ অগাস্ট ২০২৬ | ৬:০৮ পিএম
ক্যাটাগরি-১ শক্তির টাইফুন ‘ডলফিনে’র প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানে ব্যাপক দুর্যোগ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রবল বাতাস, ভারি বৃষ্টি ও উঁচু ঢেউয়ের আশঙ্কায় দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে ৫০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, শুক্রবার (৭ আগস্ট) টাইফুনটি কিউশু অঞ্চল ও ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের মধ্যবর্তী দ্বীপপুঞ্জের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার এবং দমকা বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৯৮ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন এয়ারলাইনস ফ্লাইট বাতিল করেছে। যাত্রীদের সর্বশেষ ফ্লাইট সূচি যাচাই করে ভ্রমণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
টাইফুনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে কাগোশিমা ও ওকিনাওয়া অঞ্চলে। এসব এলাকায় জলোচ্ছ্বাস, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টাইফুনের সঙ্গে তীব্র বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের রৈখিক বৃষ্টি বলয় তৈরি হতে পারে। এতে অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হয়ে নদীর পানি বৃদ্ধি ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
দুর্যোগ পরিস্থিতিতে শিল্প খাতেও প্রভাব পড়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা তাদের নয়টি কারখানায় সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।
এদিকে কিউশুর দক্ষিণাঞ্চলে প্রবল বাতাস ও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত কুমামোটো অঞ্চলও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সেখানে গত সপ্তাহের ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর প্রায় ৬ হাজার ৭০০ মানুষ এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। ফলে ঝড়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত