, , ,

শিরোনাম
বিমানবন্দরে হারানো পাসপোর্ট-স্বর্ণসহ ব্যাগ ফেরাল আনসার ইরানের ২৭ এয়ারলাইন্সসহ ৩৬ প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এক ভিসাতেই মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশে ভ্রমণের সুযোগ অনিয়মের অভিযোগে ‘ত্রিপল এ ওভারসিজ’ সিলগালা, জরিমানা ৫০ হাজার হজ ২০২৭ : অনুমতি পেল ৭০২ এজেন্সি প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে স্টেক অ্যান্ড এস্কেপ, র‍্যাফেল জিতলেই কক্সবাজার ভ্রমণ নয়াদিল্লিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মেডিকেল ট্যুরিজম ফাউন্ডেশনের আত্মপ্রকাশ মাদক চোরাচালান ঠেকাতে বিমানবন্দর-টার্মিনালে বসছে স্ক্যানার ঢাকা-সিউল সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ, সপ্তাহে ৫৬ ফ্লাইটের প্রস্তাব ৩৫ হাজার ফুট থেকে ৯ হাজার ফুটে নামল ডেল্টার বিমান, আতঙ্কিত যাত্রীরা

কেন এয়ারবাস এ৩৮০কে বলা হয় আকাশের সম্রাট?

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬ | ৩:০৪ এএম

কেন এয়ারবাস এ৩৮০কে বলা হয় আকাশের সম্রাট?

আকাশে উড়তে দেখা মাত্রই অনেকে থমকে দাঁড়ান। কেউ মোবাইল ফোন বের করে ভিডিও ধারণ করেন, কেউ আবার বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকেন বিশাল ডানাওয়ালা সেই উড়োজাহাজটির দিকে। সেটিই এয়ারবাস এ৩৮০—বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় যাত্রীবাহী বিমান, যা আধুনিক বিশ্বের ‘আকাশের সম্রাট’ নামে পরিচিত।

দীর্ঘদিন ধরে দূরপাল্লার আকাশপথে বোয়িং ৭৪৭-এর একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। সেই আধিপত্য ভাঙতেই ১৯৯০-এর দশকে এয়ারবাস হাতে নেয় এক সাহসী প্রকল্প। কয়েক বছরের গবেষণা ও উন্নয়নের পর ২০০০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এ৩৮০ প্রকল্পের কাজ। অবশেষে ২০০৭ সালে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই যাত্রীবাহী বিমানটি বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করে।

আকারে যেমন বিশাল, সক্ষমতাতেও তেমনি অনন্য এ৩৮০। প্রায় ৭৩ মিটার দীর্ঘ এই উড়োজাহাজের ডানার বিস্তার প্রায় ৮০ মিটার। সম্পূর্ণ ইকোনমি শ্রেণির বিন্যাসে এতে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৮৫৩ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারেন। এ পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করে ৩০ কোটিরও বেশি যাত্রী বহন করেছে বিমানটি। এর ডানা তৈরি হতো যুক্তরাজ্যে, লেজ স্পেনে এবং চূড়ান্ত সংযোজনের কাজ সম্পন্ন হতো ফ্রান্সের তুলুজে।

এ৩৮০কে অন্যসব উড়োজাহাজ থেকে আলাদা করেছে এর বিলাসিতা ও আরামদায়ক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। প্রশস্ত কেবিন, তুলনামূলক কম শব্দ, স্থিতিশীল উড্ডয়ন এবং আরামদায়ক আসনের কারণে যাত্রীদের কাছে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে এমিরেটস এয়ারলাইন্স এ বিমানকে বিলাসিতার নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। তাদের এ৩৮০ বিমানে ছিল আকাশে লাউঞ্জ, ফার্স্ট ক্লাস প্রাইভেট স্যুট এবং প্রায় ৪০ হাজার ফুট উচ্চতায় গোসলের জন্য বিশেষ শাওয়ার স্পা—যা বাণিজ্যিক বিমান ভ্রমণে এক সময় কল্পনার বিষয় ছিল।

তবে যাত্রীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও এ৩৮০ পরিচালনা এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য সহজ ছিল না। চার ইঞ্জিনের এই বিশাল উড়োজাহাজ পরিচালনায় জ্বালানি ব্যয় ছিল অনেক বেশি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কম জ্বালানি খরচে দীর্ঘ দূরত্বে উড়তে সক্ষম দুই ইঞ্জিনের আধুনিক বিমানের চাহিদা বাড়তে থাকে। ফলে এ৩৮০ ধীরে ধীরে বাণিজ্যিকভাবে কম লাভজনক হয়ে পড়ে।

এই বাস্তবতায় ২০১৯ সালে এয়ারবাস এ৩৮০-এর উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দেয়। ২০২১ সালে এমিরেটসের কাছে শেষ বিমানটি হস্তান্তরের মাধ্যমে এর উৎপাদনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। তবুও বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে এখনো এ৩৮০ আকাশে উড়ছে। বিশাল আকৃতি, রাজকীয় উপস্থিতি এবং বিলাসবহুল যাত্রা অভিজ্ঞতার কারণে আজও এটি বিমানপ্রেমীদের কাছে ‘আকাশের সম্রাট’ হিসেবেই সমান জনপ্রিয়।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

Su Mo Tu We Th Fr Sa

© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com