ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ৩:০৯ পিএম
ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানায় তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হুথিদের হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার পর আগুন লাগলেও দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। এর আগে সানার আল-সাবাহ এলাকার একটি তেল স্থাপনার আশপাশ থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ ঘোষণা করেছেন হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি। এসব স্থাপনার আশপাশ থেকে কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। সানায় হামলা অব্যাহত থাকলে সৌদি রাজধানী রিয়াদে ‘কঠোর ও বেদনাদায়ক’ জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন এই মুখপাত্র।
এদিকে, হুথিদের ছোড়া রিয়াদমুখী কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি আরব। এসপিএর তথ্য অনুযায়ী, দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৫টি বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকির অভিযোগ, হুথিরা সানার তেল স্থাপনা ও ভূগর্ভস্থ জ্বালানি ডিপোগুলো ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করছিল। এ কারণেই এসব স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, হুথি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের দাবি, সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিমান হামলায় সানার আল-সাবাহ এলাকার তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
সংঘাতের মানবিক প্রভাবও বাড়ছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, আগস্ট থেকে ইয়েমেনে অন্তত ৪৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। সেপ্টেম্বর থেকে দুই লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের অবকাঠামোয় হামলা জোরদার করছে হুথিরা। তবে এ দাবির পক্ষে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
তেল স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে সৌদি জোট এবং হুথিদের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি সরবরাহও নতুন চাপে পড়তে পারে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত