ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৪ অগাস্ট ২০২৬ | ১১:২৩ এএম
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এমসি-২১-৩১০ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ এবং এসজে-১০০ আঞ্চলিক বিমানের সফল পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে রাশিয়া। দেশটির দাবি, এমসি-২১ এখন শতভাগ দেশীয় যন্ত্রাংশে তৈরি, যা পশ্চিমা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানোর বড় পদক্ষেপ।
পরীক্ষামূলক উড্ডয়নটি এমন সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন কয়েক দিন আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক এভিয়েশন প্ল্যান্ট পরিদর্শন করে প্রকল্পটির অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় শিল্পগোষ্ঠী রোস্টেক-এর অধীন ইউনাইটেড এয়ারক্রাফট করপোরেশন (ইউএসি) জানায়, এমসি-২১-৩১০ উড়োজাহাজটি ১ ঘণ্টা ২৩ মিনিট আকাশে উড়ে, ঘণ্টায় ৬০০ কিলোমিটার গতি অর্জন করে এবং ৬ হাজার মিটার উচ্চতায় সফলভাবে নির্ধারিত পরীক্ষা সম্পন্ন করে।
প্রধান পরীক্ষামূলক পাইলট রোমান তাসকায়েভ বলেন, গণউৎপাদনের জন্য প্রস্তুত প্রথম উড়োজাহাজটি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে এবং নির্ধারিত সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
ইউএসি প্রধান নির্বাহী ভাদিম বাদেখা জানান, ইরকুতস্ক কারখানায় প্রথম ধাপে ১৮টি এমসি-২১ উড়োজাহাজ উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে। প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাম্প্রতিক সফরের পর সরকার প্রকল্পটির জন্য অতিরিক্ত উৎপাদন অনুমোদন দিয়েছে বলেও তিনি জানান।
২০০৯ সালে শুরু হওয়া এমসি-২১ প্রকল্পটি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, বিদেশি যন্ত্রাংশের সরবরাহ বন্ধ এবং দেশীয় বিকল্প তৈরিতে বিলম্বের কারণে কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। তবে বর্তমানে বিমানটিতে রাশিয়ার নিজস্ব পিডি-১৪ টার্বোফ্যান ইঞ্জিন, দেশীয় অ্যাভিওনিক্স, কম্পোজিট উপাদান ও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
রাশিয়ার লক্ষ্য, এমসি-২১-কে এয়ারবাস এ৩২০ ও বোয়িং ৭৩৭ সিরিজের কার্যকর বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশীয় বিমান পরিবহন খাতে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো।
রোস্টেক জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এমসি-২১-এর পূর্ণাঙ্গ সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপরই বাণিজ্যিক ফ্লাইটে বিমানটি যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমসি-২১ শুধু একটি নতুন যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ নয়, বরং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও শিল্পে আত্মনির্ভরতার অন্যতম বড় পরীক্ষা। সফলভাবে সার্টিফিকেশন ও গণউৎপাদন শুরু হলে দেশটির বেসামরিক বিমান খাতে বিদেশি নির্মাতাদের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত