ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬ | ৩:৫২ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস) নিয়ে বসবাসরত অভিবাসীদের হয় স্থায়ীভাবে বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ খুঁজতে হবে, নয়তো নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। রোববার মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন এ কথা বলেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুলিন বলেন, সাময়িক সুরক্ষা মর্যাদা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ নয়। তাঁর এ মন্তব্য আসে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক বিভক্ত রায়ের পর।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে লাখো হাইতিয়ান ও সিরীয় নাগরিকের টিপিএস সুবিধা বাতিলের অনুমতি দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচির আওতায় তারা যুদ্ধ, সংঘাত ও মানবিক সংকটে জর্জরিত নিজ দেশে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো থেকে সুরক্ষা পেয়ে আসছিলেন।
মুলিন বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চান, তাদের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। অন্যথায় সরকার তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে সহায়তা করবে।
তিনি আরও জানান, স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুকদের বিমানভাড়ার পাশাপাশি নতুন করে জীবন শুরু করতে প্রায় ২ হাজার ১০০ ডলার করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
মার্কিন আইনে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য চরম মানবিক সংকটের কারণে নিজ দেশ থেকে পালিয়ে আসা বিদেশি নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টিপিএস সুবিধা দেওয়ার বিধান রয়েছে। অতীতে এ সুবিধার মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হলেও বর্তমান প্রশাসন তা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখনও হাইতি ও সিরিয়ায় ব্যাপক সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ এবং গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মার্কিন নাগরিকদের ওই দেশগুলোতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়ে আসছে।
২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর হাইতির নাগরিকদের এবং ২০১২ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সিরিয়ার নাগরিকদের প্রথম টিপিএস সুবিধা দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ওহাইওতে বসবাসকারী হাইতিয়ান অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিবেশীদের গৃহপালিত পশু খাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা পরে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়। তবে সুপ্রিম কোর্টের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা রায়ে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপটি জাতিগতভাবে পক্ষপাতদুষ্ট—এমন অভিযোগ আদালতে প্রমাণ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত