ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬ | ৪:৩৯ এএম
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১ শতাংশ কমেছে। ব্রিটিশ হোম অফিসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান এ তথ্য জানিয়েছে।
হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ছোট নৌকায় করে মোট ১১ হাজার ৮৮৪ জন অনিয়মিত অভিবাসী ব্রিটিশ উপকূলে পৌঁছেছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ৯৮২ জন। এছাড়া ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে ১৩ হাজার ৪৮৯ জন অভিবাসী এই পথে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছিলেন। সে তুলনায় চলতি বছরে আগমন কমেছে প্রায় ১২ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও, জনমত জরিপে দলটি কয়েক মাস ধরে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন অভিবাসনবিরোধী দল রিফর্ম ইউকের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।
বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দায়িত্ব গ্রহণের পর মানবপাচারকারী চক্র দমনের অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে তার শাসনামলে ২০২৫ সালে ইংলিশ চ্যানেল হয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা ২০১৮ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ২০১৮ সাল থেকেই এই রুটে অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
এরই মধ্যে কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে লেবার পার্টির নেতা এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার গত ৩০ জুন পার্লামেন্টে একটি নতুন বিল উত্থাপন করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের উত্থাপিত বিলটির লক্ষ্য অনিয়মিত অভিবাসন নিরুৎসাহিত করা এবং অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করা।
প্রস্তাবিত আইনে শরণার্থী মর্যাদা স্থায়ী না রেখে অস্থায়ী করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের কিছু বিধানের প্রয়োগ সীমিত করা এবং আধুনিক দাসত্ববিষয়ক আইন সংশোধনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে আবেদন প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের দীর্ঘ আইনি আপিল প্রক্রিয়া সীমিত করা সম্ভব হবে।
অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে জার্মানি, ইরাকসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করেছে। এছাড়া চলতি বছরের এপ্রিলে ফ্রান্সের সঙ্গে তিন বছরের একটি চুক্তি সই হয়েছে। এর আওতায় ছোট নৌকা যেসব সৈকত থেকে যাত্রা শুরু করে, সেসব এলাকায় নজরদারি বাড়াতে ফ্রান্সকে ৬৬ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড আর্থিক সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত