নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬ | ১০:১৪ এএম
কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কেন্দ্র থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ৭৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার রাতে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ নিয়ে গত চার দিনে মোট ২২১ জন বাংলাদেশি দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং বাড়ি ফেরার জন্য আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, অধিকাংশ ভুক্তভোগী উন্নত চাকরির আশায় কম্বোডিয়ায় গিয়েছিলেন।
ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সেখানে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে তাদের বিভিন্ন সাইবার প্রতারণা চক্রের নিয়ন্ত্রিত কম্পাউন্ডে আটকে রাখা হয়। অনেককে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক শকের মতো কঠোর নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, সাইবার স্ক্যাম বর্তমানে মানবপাচারের একটি নতুন এবং উদ্বেগজনক রূপে পরিণত হয়েছে। বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে নিয়ে গিয়ে প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করা হচ্ছে।
তিনি জানান, কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের ফলে কয়েকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে বাংলাদেশিদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে প্রায় ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি চাকরির উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন। তবে ফেরত আসা অনেকেই জানিয়েছেন, সেখানে গিয়ে তারা প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থান পাননি এবং কঠিন ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত