ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২২ অগাস্ট ২০২৬ | ৫:২৬ এএম
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবার ম্যানহাটনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জেনেট ভার্গাস এ রায় দেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারক মনে করেন, এই নীতি জারির মাধ্যমে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। রায়ে নীতিটিকে ‘সুস্পষ্টভাবে বেআইনি’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এটি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিচারক ভার্গাস বলেন, কোনো আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা প্রদান পুরোপুরি স্থগিত করা বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফেডারেল আইনে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের ক্ষমতাও সীমিত করা হয়েছে।
গত জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করে। এর আওতায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি লাতিন আমেরিকা, বলকান, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ৭৫ দেশের নাগরিকেরা প্রভাবিত হন।
পররাষ্ট্র দপ্তরের যুক্তি ছিল, এসব দেশের আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তা ও স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য এবং ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি।
দুটি অভিবাসী অধিকার সংগঠন—ক্যাথলিক লিগাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার—এই নীতির বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় অভিবাসী ভিসার আবেদনকারী এবং তালিকাভুক্ত দেশগুলো থেকে পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার জন্য আবেদন করা মার্কিন নাগরিকেরাও বাদী ছিলেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মনোনীত বিচারক জেনেট ভার্গাস মামলাটির শুনানি শেষে নীতিটি বাতিলের রায় দেন।
ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব নীতির সমালোচনা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, কঠোর অভিবাসন নীতি অভিবাসীদের ন্যায্য প্রক্রিয়া ও অন্যান্য অধিকার ক্ষুণ্ন করছে এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি তৈরি করছে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত