, , ,

শিরোনাম
ঢাকা-সিউল সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ, সপ্তাহে ৫৬ ফ্লাইটের প্রস্তাব ৩৫ হাজার ফুট থেকে ৯ হাজার ফুটে নামল ডেল্টার বিমান, আতঙ্কিত যাত্রীরা শাহজালাল বিমানবন্দরে স্ক্যানার কর্মীদের রেডিয়েশন ঝুঁকি প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে যুক্তরাজ্যে বাতিল ৬০০টির বেশি ফ্লাইট মালয়েশিয়ায় অভিযানে ১৫৫ বাংলাদেশি আটক ১৬ ডিসেম্বর চালু হচ্ছে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল : বিমানমন্ত্রী ইন্দোনেশিয়ায় খুলল ৮ বিমানবন্দর, স্বস্তি ফিরল সাড়ে ৩ লাখ যাত্রীর ইঞ্জিনে ত্রুটি, ১৮৬ আরোহী নিয়ে চেন্নাইয়ে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের জরুরি অবতরণ অগ্ন্যুৎপাতে ইন্দোনেশিয়ার ৮ বিমানবন্দরে ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী আটকা ২৯ অক্টোবর শুরু হচ্ছে ১৪তম বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার

বিমানবন্দর এলাকায় ডাকাতি ১ কোটি ২১ লাখ টাকা, ৫৩ লাখই নেন মূলহোতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২০ অগাস্ট ২০২৬ | ১১:৪১ এএম

বিমানবন্দর এলাকায় ডাকাতি ১ কোটি ২১ লাখ টাকা, ৫৩ লাখই নেন মূলহোতা

একটি ফিলিং স্টেশন থেকে ব্যাংকে যাবে ১ কোটি ২১ লাখ টাকা। সেই খবর আগেই পৌঁছে গিয়েছিল একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের কাছে। এরপর কয়েক দিন ধরে চলে রেকি। নির্ধারিত দিন টাকা নিয়ে গাড়ি বের হতেই তিনটি মোটরসাইকেলে এসে পথ আটকে দেয় সশস্ত্র ডাকাতরা। মুহূর্তেই লুট হয়ে যায় কোটি টাকার বেশি অর্থ।

রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় আলোচিত এই ডাকাতির ঘটনায় চক্রটির পরিকল্পনা, হামলার কৌশল এবং টাকা ভাগাভাগির চিত্রও এখন র‍্যাবের হাতে। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হাকিম, তথ্যদাতা কাউসার এবং মূলহোতা জলিল মোল্লাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ডাকাতির ৪৮ লাখ টাকা।

ঘটনার সূত্রপাত ডিএল ফিলিং স্টেশনকে ঘিরে। র‍্যাব জানায়, চক্রের সদস্য কাউসার সেখানে তেল সংগ্রহের কাজে আসা-যাওয়া করতেন। সেই সূত্রে তিনি জানতে পারেন, ফিলিং স্টেশন থেকে প্রতি সপ্তাহে বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংকে জমা দিতে নেওয়া হয়। এই তথ্য তিনি পৌঁছে দেন চক্রের অন্য সদস্যদের কাছে।

এরপর ২ আগস্ট হাকিম, কাউসার ও জলিল মোল্লা ফিলিং স্টেশনের আশপাশ ঘুরে পুরো এলাকা দেখে নেন। টাকা কোন গাড়িতে যাবে, কখন বের হবে এবং কোথায় সেটি আটকানো সম্ভব—সবকিছুই তারা আগেই ঠিক করে নেয়।

৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী টাকা নিয়ে একটি লাল কাভার্ড ভ্যান ফিলিং স্টেশন থেকে বের হয়। গাড়িটি বিমানবন্দর থানার ক্রাউন প্লাজার সামনে পৌঁছাতেই তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা ডাকাতরা সেটির পথ আটকে দেয়। তাদের কারও হাতে ছিল পিস্তল, কারও হাতে চাপাতি। এরপর অস্ত্রের মুখে গাড়ি থেকে ১ কোটি ২১ লাখ টাকা লুট করে পালিয়ে যায় তারা।

ডাকাতির সবচেয়ে বড় অংশ যায় জলিল মোল্লার হাতে। র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় ৫৩ লাখ টাকা নিজের কাছে রাখেন। সাগর বড়াই নামে এক সহযোগী পান প্রায় ১৪ লাখ টাকা। একই পরিমাণ অর্থ পাওয়ার কথা ছিল তথ্যদাতা মুস্তাফিজের। অন্য কয়েকজন সহযোগীর ভাগে যায় প্রায় ১০ লাখ টাকা করে।

তবে ডাকাতির পর চক্রটির পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে বেশি সময় লাগেনি। ১৬ আগস্ট রাতে হাকিমকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাউসারকে আটক করা হয়। এরপর র‍্যাবের নজরদারি পৌঁছে যায় মূলহোতা জলিলের কাছেও। ১৮ আগস্ট রাতে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়ার চারভাগ মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জলিলের কাছে থাকা ৫৩ লাখ টাকার মধ্যে ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। অর্থাৎ কোটি টাকার এই ডাকাতিতে সবচেয়ে বড় ভাগ যিনি নিয়েছিলেন, তার কাছ থেকেই উদ্ধার হয়েছে লুটের প্রায় অর্ধেক অর্থ।

র‍্যাব বলছে, এই চক্র শুধু বিমানবন্দর এলাকার ওই ডাকাতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রায় আড়াই মাস আগে মতিঝিলে ১৭ লাখ টাকার ডলার ডাকাতির সঙ্গেও জলিল ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এখন মূল লক্ষ্য পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং বাকি টাকা উদ্ধার করা।

একটি গাড়ির গতিপথ ও টাকার সময়সূচি সম্পর্কে আগাম তথ্য, কয়েক দিনের রেকি এবং সশস্ত্র হামলা—সব মিলিয়ে ১ কোটি ২১ লাখ টাকার এই ডাকাতির ঘটনায় সামনে এসেছে পরিকল্পিত অপরাধচক্রের একটি সুসংগঠিত চিত্র।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

Su Mo Tu We Th Fr Sa

© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Design and Development by : webnewsdesign.com