নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ১:২১ পিএম
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আচারের বয়ামের ভেতর লুকিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ হীরা, সোনা, প্লাটিনাম, রুবি ও অন্যান্য মূল্যবান পাথর জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। এ ঘটনায় জনি রহমান নামের এক যাত্রীকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। রোববার বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ বিভাগ এ তথ্য জানায়।
এনবিআর জানায়, গত শনিবার রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম ও বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত সি-শিফটের কর্মকর্তারা নজরদারি শুরু করেন। কলকাতা থেকে আসা একটি ফ্লাইটে স্বর্ণ চোরাচালানের তথ্য পাওয়ার পর বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে তৎপরতা বাড়ানো হয়।
নজরদারির একপর্যায়ে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ব্যাগেজ ঘোষণা ছাড়াই গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করছিলেন জনি রহমান। এ সময় তাঁর ব্যাগ স্ক্যান করলে আচারের বয়ামের ভেতরে ধাতব পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। পরে ব্যাগেজ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, হীরা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী জব্দ করা হয়।
জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে হীরা বসানো ১৮ ক্যারেটের ৪৭৮ গ্রাম ওজনের ৩৮৯টি স্বর্ণের আংটি এবং ৯৫০ ক্যারেটের ৪৫০ গ্রাম ওজনের ১৫১টি প্লাটিনামের আংটি। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের ৬ গ্রাম ওজনের তিনটি হীরা বসানো সাদা স্বর্ণের অলংকার, ৮ গ্রাম ওজনের দুটি হীরা বসানো রুপার আংটি, ৪ গ্রাম ওজনের পাঁচটি স্বর্ণের লকেট, ৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং ১০৩ গ্রাম ওজনের ৪৭২টি স্বর্ণের নাকফুল উদ্ধার করা হয়।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, এসব অলংকারের পাশাপাশি ৪৫ ক্যারেটের হীরা, পোখরাজ, রুবি ও অন্যান্য মূল্যবান পাথর মিলিয়ে মোট ৭২০টি পাথর এবং ২৩টি জুয়েলারি সার্টিফিকেট কার্ড জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের মোট ওজন ১ হাজার ৫৪ গ্রাম বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ব্যাগেজ ঘোষণা না দিয়ে এসব মূল্যবান সামগ্রী আনার অভিযোগে জনি রহমানের বিরুদ্ধে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিমের পক্ষ থেকে থানায় ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত