প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১:০০ পিএম
অস্ট্রেলিয়ার বিমান সংস্থা কান্টাসের একটি উড়োজাহাজে ছারপোকার উপদ্রবের কারণে ইতালি থেকে অস্ট্রেলিয়াগামী ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের ছারপোকার কামড়ের অভিযোগের পর উড়োজাহাজটি গভীরভাবে পরিষ্কার করার জন্য সাময়িকভাবে গ্রাউন্ডেড করা হয়। শনিবার (১০ অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
এর আগে শুক্রবার পার্থ থেকে রোমগামী প্রায় ১৭ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রায় কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেন, উড়োজাহাজের ভেতরে ছারপোকা তাঁদের কামড়াচ্ছে। কামড়ের কারণে সৃষ্ট চুলকানি কমাতে যাত্রীদের অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ দেওয়া হলেও একপর্যায়ে ওষুধের মজুত শেষ হয়ে যায়। সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
কান্টাসের এক মুখপাত্র জানান, বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটির ইকোনমি শ্রেণির কয়েকটি আসনে ছারপোকার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনায় উড়োজাহাজটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিমান সংস্থাটি। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য বিকল্প থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের মূল যাত্রার নির্ধারিত সময়ের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অন্য ফ্লাইটে আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, ছারপোকা ছোট ও ডানাবিহীন পোকা। সাধারণত বিছানা, পোশাক ও আসবাবপত্রে এরা লুকিয়ে থাকে। ছারপোকার কামড়ে চুলকানি ও ত্বকে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে, তবে সাধারণত গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয় না।
বিমান ও রেল পরিবহনে ছারপোকার উপদ্রবের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে ইংল্যান্ডে সাউথইস্টার্ন রেলওয়ের কয়েকটি ট্রেনের চালকদের কেবিনে ছারপোকা পাওয়ার পর সেগুলোর চলাচল বাতিল করা হয়।
২০১৭ সালে ভ্যাঙ্কুভার থেকে লন্ডনগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ছারপোকার কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ করেছিল একটি পরিবার। এ ছাড়া গত বছর তুর্কিশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজেও ছারপোকার উপদ্রবের অভিযোগ ওঠে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ ধরনের একাধিক ঘটনার বিবরণ প্রকাশ করা হয়।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত