নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৫:০৫ এএম
বাংলাদেশে প্রবেশের আগেই আন্তর্জাতিক যাত্রীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য অপরাধী ও নিরাপত্তাঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিকে শনাক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ডেটাবেজের সমন্বয়ে ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই যাত্রীদের তথ্য কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাবে। এরপর সেই তথ্য সরকারি ওয়াচলিস্ট, ইন্টারপোলের রেকর্ড, নিষেধাজ্ঞার তালিকা এবং অনুমোদিত দেশি-বিদেশি ডেটাবেজের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে। ফলে সন্ত্রাসবাদ, মানব পাচার, মাদক চোরাচালান, আন্তঃদেশীয় অপরাধ, অবৈধ অভিবাসন কিংবা জাল ভ্রমণ নথির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
পরিকল্পনায় ফেসিয়াল রিকগনিশন, ১০ আঙুলের ছাপ, আইরিস শনাক্তকরণ, ই-গেট, কিয়স্ক এবং স্পর্শহীন যাত্রীসেবা যুক্ত করার কথা রয়েছে। বিমানবন্দরের পাশাপাশি স্থল, সমুদ্র ও রেলবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্টও এই ব্যবস্থার আওতায় আসবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাস্টারপ্ল্যানে অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম, প্যাসেঞ্জার নেম রেকর্ড, ই-ভিসা এবং এআই-চালিত ডেটা বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। শাহজালালসহ দেশের বিমানবন্দর ও সীমান্ত এলাকায় শত কোটি টাকার আধুনিক ক্যামেরা ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপনের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
বিশেষ নজর থাকবে মাদক পাচারপ্রবণ সীমান্তে। টেকনাফ, নাইক্ষ্যংছড়ি, বেনাপোল, আখাউড়া, তামাবিলসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এআই ক্যামেরা, লাগেজ ও যানবাহন স্ক্যানার বসানো হবে। সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তির তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্ভারে উঠে আসবে।
সরকারের লক্ষ্য, বিমানবন্দর ও সীমান্তকে এমন প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তাবলয়ে আনা, যাতে অপরাধী দেশে ঢোকার আগেই তার পরিচয় ও ঝুঁকি শনাক্ত করা যায়।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত