নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬ | ১১:৩৬ এএম
কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়নসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারে পর্যটন শিল্পের বিকাশে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তবে উন্নয়ন কার্যক্রম অবশ্যই পরিবেশ সংরক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। তিনি বলেন, বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে এমন অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ পর্যালোচনা করে যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সীমিত ভূমি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত উল্লম্ব (ভার্টিক্যাল) উন্নয়ন অপরিহার্য। এতে কৃষিজমি, জলাধার ও শিল্পাঞ্চল সংরক্ষণের পাশাপাশি টেকসই নগরায়ণও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রেল যোগাযোগ এবং উন্নত সড়ক অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরীতে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত হওয়ার পথে কক্সবাজারকে দেশের অন্যতম প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্থ মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বয়ে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হবে।
তিনি জানান, পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটন হাব এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এ লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব পর্যটন এলাকা নির্ধারণ, মেরিন ড্রাইভ ও উপকূলীয় অঞ্চলের বিদ্যমান বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। পর্যটন খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামো, পানি শোধনাগারসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বাণিজ্যের অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
বৈঠকে পর্যটন, পরিবেশ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, ভূমি, জনপ্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি এবং কক্সবাজার পৌরসভার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত