নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬ | ৩:২৭ পিএম
অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)-এর ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনাল নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ডের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করার পাশাপাশি ১২ জুন ২০২৬ প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও বাতিল করেছে।
মঙ্গলবার এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম এবং সদস্য এ এস এম কামাল উদ্দিন ও ছায়েদ আহম্মেদের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল মামলা নম্বর ৪/২০২৬ ও ৫/২০২৬-এর রায় দেন।
রায়ে সদ্য সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ, সদ্য সাবেক মহাসচিব আফসিয়া জান্নাত সালেহ, সাবেক সহসভাপতি জিয়াউর রহমান খান রেজোয়ান এবং সদ্য সাবেক উপমহাসচিব ইদ্রিস মিয়ার মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তকে আইনগত ভিত্তিহীন ও বেআইনি ঘোষণা করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে বলেন, বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২ অনুযায়ী প্রশাসনিক আদেশে কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল হওয়াকে মেয়াদ পূর্তি হিসেবে গণ্য করা যায় না। সংশ্লিষ্ট কমিটি পূর্ণ ২৪ মাস দায়িত্ব পালন না করায় বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ২০২৫-এর ১৮(৪) বিধি প্রয়োগ করে সাবেক নেতাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা আইনসঙ্গত হয়নি।
রায়ে আপিল বোর্ডের কার্যক্রমেও গুরুতর অনিয়মের বিষয় তুলে ধরা হয়। ট্রাইব্যুনাল জানায়, শুনানিতে উপস্থিত না থেকেও একজন সদস্য চূড়ান্ত আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়া আদেশের কপিতে সদস্যদের পদবি ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ ও আলোকচিত্র পর্যালোচনায় এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল “He who hears must decide” নীতির উল্লেখ করে বলেন, যিনি শুনানিতে অংশ নেবেন, সিদ্ধান্ত দেওয়ার অধিকারও তাঁরই। শুনানিতে উপস্থিত না থেকে আদেশে স্বাক্ষর করা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার নীতির পরিপন্থী।
ভোটার তালিকা পর্যালোচনায়ও বিভিন্ন অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করে। রায়ে বলা হয়, বাতিল লাইসেন্সধারী ব্যক্তি, একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক প্রতিনিধি এবং প্রতিষ্ঠানের সাধারণ কর্মচারীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে ৪৬ জন বৈধ সদস্যকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
এসব অনিয়মের কারণে ১২ জুন প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকাকে বেআইনি ঘোষণা করে তা বাতিল করেছে এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনাল।
এ রায়ের ফলে আটাবের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত