ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬ | ৩:২৪ পিএম
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার জন্য জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আগামী আগস্টের শেষ দিকে অথবা সেপ্টেম্বরের শুরুতে চুক্তি সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তাফা মাহমুদ সিদ্দিক।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর কুর্মিটোলায় সিএএবির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বেসামরিক বিমান চলাচল ও এয়ার ট্রাফিক অপারেশন’ শীর্ষক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। এর আগে আগামী ৩১ জুলাই জাপানি কনসোর্টিয়াম তাদের দরপত্র জমা দেবে। এরপর সেটি মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সিএএবি চেয়ারম্যান জানান, চুক্তি সই হওয়ার পরই পরবর্তী কার্যক্রমের সময়সূচি চূড়ান্ত হবে। তবে সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগস্টের শেষ দিকে অথবা সেপ্টেম্বরের শুরুতে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, সোঝিৎস করপোরেশন এবং নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করপোরেশনকে নিয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে সরকারের আলোচনা চলছে।
চলতি বছরের শুরুতে জাপানি পক্ষ সংশোধিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর সেবা ফি, পরিচালন নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব বণ্টনসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি বিষয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য কমে এসেছে বলে জানা গেছে।
প্রায় ৯৯ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হলেও পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত বিষয় চূড়ান্ত না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হয়নি।
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)–এর অর্থায়নে প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ টার্মিনালের আয়তন প্রায় ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার। এটি চালু হলে বছরে অতিরিক্ত ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী এবং প্রায় ৯ লাখ টন কার্গো পরিবহন সক্ষমতা যুক্ত হবে।
কর্মশালায় বক্তব্যে মোস্তাফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল একটি অত্যন্ত কারিগরি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট খাত। তাই এ খাতের বিষয়ে সঠিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের জন্য বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, সাংবাদিকদের বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা বাড়াতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মশালার আয়োজন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরসহ স্পর্শকাতর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়নের বিরুদ্ধে সিএএবি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এসব এলাকায় ড্রোন পরিচালনার আগে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
কর্মশালায় সিএএবির সদস্য (অপারেশনস ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা, এয়ারসাইড ও ল্যান্ডসাইড কার্যক্রম, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) মান ও সুপারিশ বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সিএএবির সদস্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ লাবলুর রহমান হজযাত্রীদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন সেবামূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। অন্যদিকে সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল, এয়ার ট্রাফিক ফ্লো ম্যানেজমেন্ট, নেভিগেশন ব্যবস্থা, ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস), এয়ারফিল্ড পরিচালনা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত