ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬ | ৬:৩২ পিএম
ভারতের আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে মুছে যায়নি সেই দিনের দগদগে স্মৃতি। স্বজন হারানোর বেদনা, ধ্বংসস্তূপের ভয়াবহ দৃশ্য আর অসহায় আর্তনাদ এখনও তাড়া করে ফিরছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।
গত বছরের ১২ জুন বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিজে মেডিক্যাল কলেজের আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৬০ জন। তাদের মধ্যে বিমানের ২৪১ জন যাত্রী ও ক্রু ছাড়াও মাটিতে থাকা আরও বহু মানুষ নিহত হন।
স্বজন হারানোর ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন প্রহ্লোদ ঠাকুর। দুর্ঘটনায় তিনি হারিয়েছেন স্ত্রী সরলাবেন এবং মাত্র দুই বছরের নাতনি আধ্যাকে। এক বছর পরও প্রতিটি সকাল শুরু হয় তাদের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে। কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে তিনি বলেন, বিমানের শব্দ শুনলেই বুক কেঁপে ওঠে। মনে পড়ে যায় সেই দিনের কথা। এখন আর আকাশের দিকে তাকাতেও ইচ্ছা করে না।
দুর্ঘটনার সময় সরলাবেন কলেজের মেসে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সঙ্গে ছিল ছোট্ট আধ্যা। ভবনের ওপরের তলায় যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই সেখানে আছড়ে পড়ে বিমানটি। কয়েকদিন ধরে হাসপাতাল ও বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের সদস্যরা তাদের মরদেহ শনাক্ত করেন।
এক বছর পেরিয়ে গেলেও দুর্ঘটনাস্থলের অনেক অংশ এখনও সেই ভয়াল দিনের সাক্ষ্য বহন করছে। পোড়া দেয়াল, ভাঙা ছাদ, আগুনের কালো দাগ এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা নানা স্মৃতি যেন থমকে থাকা সময়ের গল্প বলে। প্রশাসন ভবনটি ভেঙে নতুন হোস্টেল নির্মাণের পরিকল্পনা করলেও আপাতত এটি দাঁড়িয়ে আছে এক নীরব স্মৃতিস্তম্ভ হয়ে।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের অনেকেই এখনও মানসিকভাবে স্বাভাবিক হতে পারেননি। সেদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন শিক্ষার্থী আরমান খান পাঠান। দীর্ঘ সময় পর উদ্ধারকর্মীরা তাকে জীবিত বের করে আনেন। তার বন্ধু আদিত্য দয়াল জানান, দুর্ঘটনার পর বহুদিন ধরে পোড়া ধোঁয়ার গন্ধ যেন তাদের নাক ও মনে স্থায়ীভাবে গেঁথে ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেও দিনটি এক দুঃস্বপ্ন। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া অনেকেই জানান, চারদিকে আগুনের লেলিহান শিখা, ঘন ধোঁয়া আর ছিন্নভিন্ন ধ্বংসাবশেষের দৃশ্য আজও তাদের ঘুম কেড়ে নেয়।
দুর্ঘটনার প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে বিজে মেডিক্যাল কলেজে প্রার্থনা সভা, রক্তদান কর্মসূচি ও বৃক্ষরোপণের আয়োজন করা হয়েছে। নিহতদের স্মরণে নীরবতা পালন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্বজনরা।
কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, জীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরলেও ১২ জুনের সেই কালো দিন কখনও বিস্মৃত হওয়ার নয়। আর যেসব পরিবার প্রিয়জন হারিয়েছে, তাদের কাছে সময় হয়তো ক্ষতের গভীরতা কিছুটা কমিয়েছে, কিন্তু শোকের ভার এখনও রয়ে গেছে ঠিক আগের মতোই।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত