ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:২৪ এএম
বিমান দুর্ঘটনা মোকাবিলা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ভিয়েতনাম। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনকে অধিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং সামরিক বাহিনী ও পুলিশের কাছ থেকে সরাসরি সহায়তা চাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
ভিয়েতনামের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে একটি খসড়া সিদ্ধান্ত দেশটির নির্মাণ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে বিমান চলাচল খাতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম সমন্বয়ের নতুন প্রবিধান কার্যকর হবে। একই সঙ্গে ২০১২ সালের ৬ আগস্ট জারি করা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তটি প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
খসড়া প্রস্তাবের অন্যতম লক্ষ্য হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা। এতে নির্ধারিত দায়িত্ব ও কর্তৃত্বের আওতায় প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে নিজস্ব উদ্যোগে অনুসন্ধান ও উদ্ধার পরিকল্পনা গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতার বাইরে চলে গেলেই কেবল বিষয়টি উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
প্রস্তাবিত বিধানে স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বও স্পষ্ট করা হয়েছে। নিজ নিজ এলাকায় উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেবে প্রাদেশিক বেসামরিক প্রতিরক্ষা কমান্ড। প্রাদেশিক গণকমিটির চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার নিয়োগ করবেন। অন্যদিকে, কমিউন পর্যায়ের প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে স্থানীয় বাহিনীকে নির্দেশ দিতে পারবে।
জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা পেতে বিমান চলাচল অনুসন্ধান ও উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র, বিমানবন্দরের জরুরি কেন্দ্র এবং প্রাদেশিক বেসামরিক প্রতিরক্ষা কমান্ডকে নিকটবর্তী সামরিক ও পুলিশ ইউনিটের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া, সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে ঘটনাস্থলের কমান্ডারকে উদ্ধারকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী উদ্ধার পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রথম উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর পর প্রাথমিক উদ্ধার কার্যক্রম সংগঠিত করার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কমান্ডার পালন করবেন।
নতুন ব্যবস্থায় ভিয়েতনামের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের মধ্যে থাকবে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর ভূমিকা নির্ধারণ, উদ্ধার পরিকল্পনা অনুমোদন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রের সঙ্গে কার্যক্রম সমন্বয় করা।
প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে বিমান দুর্ঘটনার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নতুন বিধানগুলো এখনো খসড়া প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত