নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬ | ৮:১৮ এএম
গ্রাহক ও সাব-এজেন্টদের কাছ থেকে বিমান টিকিটের জন্য অগ্রিম অর্থ নিয়েও টিকিট সরবরাহ না করার অভিযোগে অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্ট (এফইবিডি)-এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা মানিলন্ডারিংয়ের মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে প্রতিষ্ঠানটির সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিআইডির মিডিয়া বিভাগ।
মামলার আসামিরা হলেন— ফ্লাইট এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম, প্রেসিডেন্ট এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, পরিচালক আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম, পরিচালক এ কে এম শাহদাত হোসেন, পরিচালক আব্দুল গণি মেহেদী, হেড অব ফাইন্যান্স মো. সাকীব হোসেন এবং সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেসের স্বত্বাধিকারী মোতাহের হোসেন।
সিআইডির অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৬ সালে অনলাইনভিত্তিক বিমান টিকিট বিক্রির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ফ্লাইট এক্সপার্ট। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি হোটেল বুকিং, হজ-ওমরাহ প্যাকেজসহ বিভিন্ন ভ্রমণসেবা চালু করে। ২০১৯ সালে এফইবিডি নামে যৌথমূলধনী কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হলেও তারা ফ্লাইট এক্সপার্ট ও এফইবিডি—উভয় নামেই ব্যবসা পরিচালনা এবং ব্যাংকিং লেনদেন করত।
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটি বিজনেস-টু-বিজনেস (বি-টু-বি) ও বিজনেস-টু-কনজ্যুমার (বি-টু-সি) উভয় মডেলে টিকিট বিক্রি করত। বিভিন্ন সময়ে অস্বাভাবিক মূল্যছাড়ের প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন সাব-এজেন্ট ও সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করা হলেও নির্ধারিত টিকিট সরবরাহ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম ২০২৫ সালের ১ আগস্ট দেশ ত্যাগ করেন।
সিআইডির অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এফইবিডির বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া অর্থ পরবর্তীতে ফ্লাইট এক্সপার্টের একাধিক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এরপর সেই অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর, উত্তোলন ও রূপান্তরের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ সম্পদের উৎস, মালিকানা ও প্রকৃতি গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ মিলেছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশত্যাগের পরও কোম্পানির কয়েকজন পরিচালক ও হেড অব ফাইন্যান্স বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করেন। সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব লেনদেনের মাধ্যমে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফ্লাইট এক্সপার্ট বিভিন্ন আইএটিএ অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করলেও বহু ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য গ্রহণের পরও টিকিট সরবরাহ করা হয়নি। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই টিকিটের বিপরীতে একাধিক উৎস থেকে অর্থ নেওয়ার ঘটনাও শনাক্ত হয়েছে।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, প্রতারণার মাধ্যমে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা আত্মসাতের পর তা বিভিন্ন ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করে মানিলন্ডারিং সংঘটিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত করবে সিআইডি। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও অর্থ লেনদেনের বিষয়ে আরও তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
© 2026 Aviation Times 24 কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত